চীনের সঙ্গে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির পথে ভারত

ভারত ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

চলতি বছরের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ ঘাটতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীন থেকে ১১৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৯৫৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে ভারত, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলার। এর বিপরীতে এ ১১ মাসে চীনে ১৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করতে পেরেছে ভারত। ফলে অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেই বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ২০২ কোটি ডলারে, যেখানে গত অর্থবছরে এ ঘাটতি ছিল ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৯২১ কোটি ডলার।

গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানান, এ অর্থবছরে ভারতের রফতানি ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম, অথচ আমদানি এরই মধ্যে ১২ হাজার কোটি ডলার ছুঁইছুঁই। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন, অর্থবছর শেষে এ ঘাটতি ১১ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। এ বিশাল বাণিজ্য ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে ভারতে ‘অপর্যাপ্ত উৎপাদন’ ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন শ্রীবাস্তব।

তিনি বলেন, ‘ভারতের উৎপাদন খাত এখনো চীনা উপকরণের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ, ইভি ব্যাটারি, সোলার মডিউল, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ওষুধের কাঁচামালের জন্য ভারতকে চীনের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয়, যা চট করে অন্য দেশ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।’

আরও